বাংলার কার্তিক ধাঁচ থেকে গুগলের বৃদ্ধ কারিগর-বিশ্বকর্মার বিবর্তনের সাক্ষী একটা গোটা প্রজন্ম

অনন্যা মজুমদার: ছোটবেলায় বিশ্বকর্মা ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছি, এমন স্মৃতি না থাকলেও স্কুলে যাওয়া আসার পথে, রিক্সা স্ট্যান্ড, অটো স্ট্যান্ড, বাস টার্মিনাসে মহা সমারোহে বিশ্বকর্মা পুজো হতে দেখেছি। কখনো বা রিক্সা, অটোয় ওঠার সময় পুজোর প্রসাদ হিসেবে পেয়ারা, বাতাবিলেবু, কলা বা আখের টুকরোও প্রসাদ হিসেবে পেয়েছি। স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক শিক্ষা অনুসারে প্রাপ্তিস্বীকার করতে জোর হাত করে কপালে ঠেকিয়েছি। যাঁর দিকে তাকিয়ে, তিনি বুড়ো নন মোটেও। দিব্য কন্দর্পকান্তি, অনেকটা মা দুর্গার জ্যেষ্ঠ পুত্রের মত নায়ক সুলভ চেহারা। সেই বয়সে মাঝে মধ্যে মনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন জাগত। এত বড় বড় ঠাকুর বিসর্জনের দরকার কি? পিছন থেকে হাতি আর দুটো হাত সরিয়ে একটা ময়ূর জুড়ে দিলেই তো দিব্যি কার্তিক ঠাকুর বলে দুর্গাপুজোয় চালানো যায়। কত পয়সা বাঁচে তাতে।

কিন্তু ছোটোদের যুক্তি আর কবেই বা বড়দের জগতে গ্রাহ্য হয়েছে! অনেকগুলো শরত কেটে গিয়েছে এরপর। প্রকৃতির নিয়ম মেনে সেদিনের ছোটোরাও আজ সেই বড়দের দুনিয়ার বাসিন্দা। কিন্তু চিরযুবা দেবতা যে কোন নিয়মে সাদা দাড়িওয়ালা বুড়ো হলেন তার উত্তর পেলাম না।

২০২৩ সালের বিশ্বকর্মা পুজো, অর্থাৎ আজ গুগলের ইমেজ সেকশনে বিশ্বকর্মা খুললেই দেখা মিলছে হাতির পিঠে বসা চতুর্ভুজ দেব কারিগরের। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমাদের আজন্ম পরিচিত বিশ্বকর্মা ঠাকুরের একটুও মিল নেই। তিনি রীতিমতো গম্ভীর, শ্বেত শ্মশ্রুগুম্ফ সম্বলিত।  কার্তিক থুড়ি বিশ্বকর্মার বদলে যেন ব্রহ্মা! অথচ বাংলার বিশ্বকর্মা চিরকালই কুচকুচে কালো বাবরি চুল নাকের নিচে সরু কালো গোঁফ সমেত যুবা অবতারে ধরা দিয়েছেন। হঠাৎ আমাদের জানাভেবং গুগলের জানার মধ্যে এত তফাত কিভাবে হল তা জানা নেই।

একই সঙ্গে জানা নেই যে কেন বিশ্বকর্মা পুজোয় আশপাশ এত শান্ত। আগে সকাল থেকে সারা পাড়ার চারিদিকের ছাদ থেকে হৈচৈ-এর আওয়াজ আসত কানে। বোম্মারা, ভো-কাট্টা শব্দের মাত হয়ে যেত পাড়া। নীল আকাশ জুড়ে উড়ত পেটকাটি, ময়ূরপঙ্খী, মোমবাতি, চাঁদিয়াল। আজ তাদেরও দেখা নেই। সেদিনের কিশোর ছোটোরা আজ বড় হয়ে গিয়েছে। আর আজকের ছোটদের সময় নেই ঘুড়ি ওড়ানোর। তারা মোবাইলের চারকোনা স্ক্রিনের জেলখানায় কয়েদি। তাই বোধহয় বাধ্য হয়েছেন বিশ্বকর্মা বুড়ো হতে।

যতদিন আকাশ ছেয়েছে রঙিন ঘুড়িতে, পাড়া কাঁপানো ভোকাট্টা চিৎকারে, কঞ্চি হাতে ছোট্টো ছেলের কাটা ঘুড়ির পিছনে ছুটে চলার গতিতে ততদিন যুবা ছিলেন বিশ্বকর্মা। আজ বোধয় বাধ্য হয়েই বৃদ্ধ হলেন তিনি। কারণ আমরাও যে বড় হয়ে গেছি!

'Yamraj' waiting for you: UP CM Yogi Adityanath sends stern warning to those harassing women

ভোকাট্টা আনন্দ, মোবাইলবদ্ধ শৈশব আর খোঁজে না পছন্দের তিন ডানাকে

Share on Social Media

Breaking News

  • Renowned Television Actor Rituraj Singh Passes Away at 59 Due to Heart Attack
  • Aleksandar Pantic Joins Jamshedpur FC Directly in Strategic Football Move
  • Ritesh Deshmukh Announces Directorial Venture: 'Raja Shivaji'
  • Mahua Moitra Faces Summons from Enforcement Directorate Over Foreign Exchange Act Violations
  • Mamata Banerjee Inaugurates Biswa Bangla University and Unveils Development Initiatives in Birbhum
  • Samajwadi Party to Join Bharat Nyay Yatra After Finalizing Seat-Sharing Deal with Congress, Says Akhilesh Yadav
  • Breaking News: Government Offers Breakthrough Proposal to Resolve Farmer Protests
  • Nifty 50 Hits Record High in 2024, Driven by Financial and Energy Sector Surge
  • Breaking News: Supreme Court Stays Summons of Administrative Officers in Assault Case
  • "Oppenheimer" Dominates BAFTA Awards: Cillian Murphy and Christopher Nolan Triumph
  • Breaking: PM Inaugurates Kalki Dham Temple & Unveils ₹10 Lakh Crore Development Plan for Uttar Pradesh
  • Former US President Donald Trump Hit With $35.5 Million Fine for Concealed Wealth
  • Tension Rises in Political Circles Over Tragic Incident in Chopra; Governor to Visit
  • Babita Phogat of the Dangal movie died due to the wrong treatment!
  • French Journalist Vanessa Dognak Leaves India Amid Controversy